মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

খুলনা বিভাগের পুরাকীর্তিসমূহ

ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত দক্ষিণবঙ্গ তথা যশোর-খুলনা-বরিশাল এবং কুষ্টিয়া-মেহেরপুর-ঝিনাইদহ-সাতক্ষীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটি ধারণ করছে আদি-ঐতিহাসিক যুগ হতে শুরু করে আদি-মধ্য যুগ, মধ্যযুগের সুলতানী ও মোগল আমল এবং ঔপনিবেশিক ও ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্যকাঠামো ও পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। ভৌগোলিক ও পরিবেশিক প্রেক্ষিতের বিচারে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল হতে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এই অঞ্চলের রয়েছে অতীত মানুষের স্থাপিত বসতির ভিন্ন মাত্রার বৈশিষ্ট্য। যা অঞ্চলটিকে দিয়েছে স্বকীয়তা এবং এই অঞ্চলে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিচারে প্রাচীনকাল হতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সময়কালে বসতি তৈরির আলামত সে ধারণাকেই প্রমাণ করে।

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্রের আলোকে আদি ঐতিহাসিক যুগের প্রাচীন বঙ্গের সাথে আরব সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের নৌ-বানিজ্য সম্পর্ক ছিল। আঞ্চলিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিচারে দক্ষিণবঙ্গ আদি ঐতিহাসিক নগর প্রাচীন তাম্রলিপ্তি বা তমলূকের সাথে সম্পৃক্ত। যা এই অঞ্চলে ‘আদি ঐতিহাসিক’ যুগে মানব বসতি ছিল বলে ধারনা দেয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্নস্থানসমূহে (যেমন, ভরত ভায়না, দমদম পীরস্থান ঢিবি, ভাতভিটা প্রভৃতি) প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি (যেমন-স্থাপত্যকাঠামো, উৎকীর্ণ তাম্রলিপি, পাথরের মূর্তি, মুদ্রা, পোড়ামাটির অলঙ্কৃত ফলক এবং মৃৎপাত্রসমূহ প্রভৃতি) আদি মধ্যযুগে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপনের প্রমাণ দেয়।

আদি মধ্যযুগ-পরবর্তী সময়ে মধ্য যুগীয় যেসকল নগর ও বসতির আলামত পাওয়া যায় তার আলামত এখনো পুরো অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিশেষ করে খানজাহানের স্মৃতি বিজড়িত বাগেরহাটের ষাটগম্বুজসহ অন্যান্য স্থাপনাসমূহ (যা মধ্যযুগের শহর খলিফাতাবাদ বলে পরিচিত) এবং ঝিনাইদহের বারোবাজারের স্থাপনা-গুচ্ছ (যা বাগেরহাটে প্রাপ্ত স্থাপনা ও প্রত্ন নিদর্শনের সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ও মধ্যযুগের শহর মাহমুদাবাদ বলে পরিচিত)। এছাড়াও কুষ্টিয়া হতে বরিশাল-পটুয়াখালি পর্যন্ত রয়েছে সুলতানী ও মোগল আমলের ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ, মসজিদবাড়িয়া মসজিদ ও বিবিচিনি শাহী মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ, হাম্মামখানা, সেক্যুলার স্থাপনা ও পুকুর বা দিঘীসমূহ। এই স্থাপনা বা প্রত্ননিদর্শনসমূহ সুলতানী ও মোগল যুগের বসতির নির্দেশক।

এছাড়া মধ্যযুগের বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন পাওয়া যায় যা স্থানীয় ইতিহাসের আলোকে বারো ভুইয়া খ্যাত প্রতাপাদিত্যের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। ঔপনিবেশিক ও ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্থাপনাসমূহের সংখ্যা এই অঞ্চলে সর্বাধিক। এই সময়ে নির্মিত নীলকুঠি, প্রশাসনিক ভবন, স্মৃতিস্তম্ভ, গীর্জা বা চার্চ, মন্দির এবং অসংখ্য জমিদার বাড়ির অস্তিত্ব রয়েছে (যেমন, রাজা সীতারাম রায়ের কীর্তিসমূহ, আমঝুপি নীলকুঠি, শিলাইদহ রবীন্দ্রকুঠিবাড়ি, স্মৃতিস্তম্ভ, চাঁচরা শিব মন্দির, মাহিলারা সরকার মঠ প্রভৃতি)। ধারনা করা হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো পর্তুগীজদের জোসুইট গীর্জাটিও এই অঞ্চলে ছিল, যা বর্তমানে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ।

প্রতিকূল পরিবেশ, বৈরী আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দৈব-দুর্বিপাক এবং বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ঐতিহ্য-সচেতনার অভাবে পুরাকীর্তিসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশই আজ বিলীন হওয়ার পথে। এক শ্রেণীর অসাধু লোভী স্থানীয়  ভূমি দস্যুদের আগ্রাসী মনোভাব ও তৎপরতায়  কিংবা ইট লুন্ঠনকারীদের বেপরোয়া দৌরাত্ন্য, পুরাকীর্তির তোয়াক্কা না করে পুরাকীর্তি সংস্কারের নামে অতি উৎসাহী একটি শ্রেণীর ঐতিহ্য বিনাশী ও আত্নঘাতী কর্মকান্ডের ফলে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নিরব সাক্ষী হয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অনেক পুরাকীর্তিই বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়, খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ এই অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের পুরাকীর্তি সরকারীভাবে সংরক্ষিত ঘোষণা করে সেগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে। বর্তমানে খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগে সংরক্ষিত পুরাকীর্তির সংখ্যা ৯৭ টি।

 

ষাটগম্বুজ মসজিদ
নয়গম্বুজ মসজিদ
রণবিজয়পুর মসজিদ
সিংগার মসজিদ
বিবি বেগনী মসজিদ
চুনাখোলা মসজিদ

রেজা খোদা মসজিদ

জিন্দাপীরের মাজার ও মসজিদ

সাবেকডাঙ্গা প্রার্থনাকক্ষ

উলুঘ খান জাহান-এর বসতবাড়ি
খান জাহান আলীর সমাধি সংলগ্ন এক গম্বুজ জামে মসজিদ

খান জাহানের সমাধি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বাড়ি
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বাড়ি  
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বসতভিটা, পিঠাভোগ
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি
ভরত ভায়না
শেখপুর জামে মসজিদ
চাচঁড়া শিব মন্দির
জোড় বাংলা মন্দির
গোড়ার মসজিদ
পীরপুকুর  ঢিবি
পঞ্চরত্ন মন্দির (বিষ্ণু মন্দির)
শিলাইদহ  রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি
আমঝুপি নীলকুঠি   
মসজিদকুঁড় মসজিদ
তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ি
জোড় বাংলা মন্দির
গলাকাটা দিঘি মসজিদ
রবীন্দ্র কুঠি বাড়ি, শিলাইদহ

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter